ডাউন মেমোরি রেল
চন্দন দে
দীর্ঘ রাত্রির পর এলো নরম সকাল। আসতে হলো তাই।
পূর্ব-পশ্চিমের এক সময়ের যোগসূত্র রেলপথটাকে আর বিয়োগ চিহ্ন হয়ে পড়ে থাকতে হবে না। সে আবার জুড়তে চলেছে। তেতাল্লিশ বছর পর।
সরকারী তরফের ঘোষণা, পয়লা বৈশাখেই চাকা গড়াচ্ছে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের। গেদে-দর্শনার মাঝে ফের হিস্হিস্ আওয়াজ তুলে ছুটবে যাত্রীবাহী ইঞ্জিন। তন্দ্রাভরা এক দুপুরে তাই খানিক স্মৃতির পথে বেড়াতে যাওয়া। গিয়ে বসলাম, বহুদিন একলা পড়ে থাকা স্টেশন দর্শনা-র তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে। বড়ই ক্লান্ত এই সময়। পাখিরা মগ্ন ভাত-ঘুমে। বসে বসেই চোখটা লেগে এসেছিল। এরই মধ্যে কখন পাশে এসে বসেছেন কোট-প্যান্ট পরা হাড় জিরজিরে এক বয়স্ক। মুখে তাঁর অদ্ভুত প্রশান্তি। মনে হলো, তেতাল্লিশ বছর আগের সেই সময়টা যেন থমকে রয়েছে তাঁর মুখটিতে চমকে উঠেছিলাম। কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘ভয় নেই। আমি এখানকার স্টেশনমাস্টার চলো, তোমার সঙ্গে একটু আলাপ সারা যাক।’
দেখলাম ওধারের প্ল্যাটফর্মে মালগাড়ি দাঁড়িয়ে। এসেছে ইন্ডিয়া থেকে। মাল নিয়ে ঢুকছে পূর্ব-বাংলায়। স্টেশনমাস্টার জিজ্ঞাসা করলেন-‘এই রেলপথের হিস্ট্রি কিছু জানো?’
জানতাম একটু-আধটু। কিছু শুনেছিলাম পিসির মুখে। তবে তা কোনো রেল-বৃত্তান্ত নয়, বেশি ছিল ভিটে-মাটি হারানোর আর্তনাদই। হিসেব ছিল না সন-তারিখেরও। আর একবার উঠেছিলাম ঋত্বিকের ট্রেন-ক্যামেরায়। ‘কোমলগান্ধার’-এ, এই পথেই। রেললাইনের ওপর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল ক্যামেরা, গতি নিচ্ছিল ট্রেনের মতোই...ইঞ্জিনের শব্দকে ছাপিয়ে জোরালো হচ্ছিল সেই গান- ‘দোহাই আলি, দোহাই আলি—’। মনে হচ্ছিল, আমিও যেন সেই ট্রেনে সওয়ার। ঠিক তখনই মাটিতে আছড়ে ফেলেছিলেন পরিচালক—ক্যামেরা ধক্ করে থেমে গিয়েছিল মাঝপথে কেটে দেওয়া রেললাইনের শেষে এসে। বুকে ধাক্কা লাগিয়ে শুনিয়ে দিয়েছিলেন দেশভাগের শব্দ।
ভাঙন দেখা সেই রেললাইনের সামনে দাঁড়িয়ে একবার গদ্য ফলাবার সুযোগটা ছাড়লাম না। — এই রেললাইন দেখেছে, দেশভাগের জ্বালা বুকে নিয়ে এপার ওপার ডিঙোনো এক অপার বাংলাকে। একবার ৪৭-এ— কোনো প্লেট টেকটনিকের কারসাজি নয়, কেবল একটা ধর্মের দাঁড়ি টেনেই একটা গোটা দেশকেই ছিঁড়ে দু’টুকরো করে দিয়েছিল ব্রিটিশরা। তারপর আবার ৬৫-তে। ভারত-পাক যুদ্ধের সময়। ওপার বাংলা যদিও সেসময় পূর্ব-পাকিস্তান। কিছু বছর পর একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পরপর এমন ঘটাতেই ট্রেনের চাকার সঙ্গেই থেমে গিয়েছিল দোহাই আলির সুর।
মুখে প্রশ্রয়ের হাসি নিয়ে আমার জ্ঞান শুনছিলেন স্টেশনমাস্টার। এবার বললেন, ‘আছে আরো কিছু —আরো অনেক গল্প।’ চোখে মুখে উৎসাহের আলো দেখেই শুরু করলেন, ‘পঁয়ষট্টির এপ্রিল মাসের আগে ভারত আর পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে যাত্রী ট্রেন চলতো নিয়মিত, বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে। যুদ্ধ লেগেছিল সেবছরই। সেই থেকে বন্ধ পূর্ববঙ্গ এক্সপ্রেস আর বরিশাল এক্সপ্রেস।’
মালগাড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন, ‘হ্যাঁ, ঐ মালট্রেন চলছে ২০০০সাল থেকে—পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে।’ খানিক থেমেই শুরু করলেন ফের, ‘আশিতে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। এসেছিলেন ঢাকায়। তখনই শুরু হয় কথাবার্তা। তারপর পদ্মা-মেঘনা দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। শেষে দু’হাজারে চললো মালগাড়ি। ওটা চালু হতেই আলাপ শুরু হলো যাত্রী ট্রেন চালানো নিয়ে।’
—‘বসে না থেকে, চলো খানিক পায়চারি করা যাক’। বেঞ্চ ছেড়ে উঠতেই কাঁধে হাত রেখে পা বাড়ালেন, বাড়াতে হলো আমাকেও। ইতিহাসের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই স্টেশনমাস্টার ঢুকে পড়লেন ইতিহাসের অন্দরে। — ভারত-বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের ইতিহাস বেশ লম্বা।’
বললাম, সেসময় বাংলাদেশ বলে তো কিছুই ছিল না।
খানিকটা হোঁচট খেলেও সামলে নিলেন, ‘হ্যাঁ, ঠিকই। যাক, যা বলছিলাম — সালটা ১৮৫২। কলকাতা থেকে ভায়া সুন্দরবন ঢাকা পর্যন্ত রেলপথ তৈরির প্রস্তাব দিলো কেনেডি। জে পি কেনেডি তখন মিলিটারি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তখন তো বার্মা ভারতের মধ্যে। ব্রিটিশরা বুঝেছিল, শুধু নৌপথে আর ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে হবে না। দেশটাকে গুছিয়ে লুঠতে হলে চাই রেলের মতো দ্রুততম বড় কোনো যান। তবে এই বিশাল জায়গায় রেলপথ বসানো সম্ভব কি না, তা বুঝে নিতে মেজর গ্রেথেডকে দায়িত্ব দেওয়া হলো সার্ভে করার। সার্ভের রিপোর্ট এলো খুব শীঘ্রই — কমখরচে একাজ সম্ভব। এরপর ১৮৫৫ সালে তৈরি হলো ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে’। এরাই শিয়ালদহ-রাণাঘাট শাখায় রেল চালালো ১৮৬২-র ২৯শে সেপ্টেম্বর। পরে তার শাখা ছড়িয়েছে- গেছে দর্শনা-কুষ্টিয়া হয়ে নান দিকে।’
উসখুস করছি দেখে স্টেশন মাস্টার এবার সরাসরি প্রসঙ্গে ঢুকে পড়লেন। — ‘কলকাতা থেকে সরাসরি তিনটি মেল এক্সপ্রেস আসতো পূর্ব বাংলায়, অধুনা বাংলাদেশে। —ঢাকা মেল, চট্টগ্রাম মেল আর বরিশাল এক্সপ্রেস।’
বললাম, এসবই তো বলছেন বইয়ের কথা তা নিয়ে বাঙাল-বাঙালীর কী এসে গেল?
মুচকি হাসলেন স্টেসনমাস্টার। —‘শোনো, তাহলে বাঙালদের কথাই। মজার ব্যাপার হলো, ট্রেনগুলির নাম অমন হলে কোনো ট্রেনেরই টার্মিনাল বরিশাল ছিল না। ছিল না ঢাকা বা চাটগাঁও। বরিশাল এক্সপ্রেস যেত খুলনা পর্যন্ত। তারপর ১২ ঘন্টা স্টিমারে চড়ে পৌঁছাতে হতো বরিশালে।’
বাব্বা।
কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘অমন হাঁ করে থেকোনা। মুখে মাছি ঢুকবে যে। তারপর যা বলছিলাম — চট্টগ্রাম আর ঢাকা মেল আসতো গোয়ালন্দ পর্যন্ত। তারপর পেরোতে হতো নদী। স্টিমার চলতো রেলের ব্যবস্থাতেই।’
—‘তোমরা তো পঞ্চায়েতী পশ্চিমবঙ্গকে দেখছো, তাই বুঝতে পারবে না। দেশভাগের আগে ওয়েস্ট বেঙ্গলের জমি তেমন উর্বর ছিল না। চাল, ডাল থেকে বহু কিছুই যেত পূর্ব বাংলা থেকে।’
স্টেশনমাস্টার বলতে বলতে চললেন, আমি মনোযোগী ছাত্রের মতো এগোলাম তাঁকে শুনতে শুনতে। —‘কলকাতা তখন দেশের রাজধানী, তাই তার আকর্ষণও ছিলো দারুণ এপারের জমিদারদের ছেলে-পুলেরা হায়ার-স্টাডিজের জন্য কলকাতাতেই যেত। চাকরি-বাকরি-ব্যবসা সবই ছিল কলকাতাকে ঘিরে। সবটাই তা হয়েছিল ঐ রেল চালু হওয়ার পর। বুঝলে হে ছোকরা?’
খানিক থেমে আবার শুরু করলেন, ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু তো ছিলেন ফরিদপুরের লোক। পড়তেন তোমাদের মৌলানা আজাদ কলেজে। খুলনা থেকে বরিশাল এক্সপ্রেস ধরেই তো তিনিও যাইতেন কইলকাতা।’
বুঝলাম খোঁচাটা ফেরত দিলেন আর একটু তাতাবার জন্য বললাম — সাধারণ মানুষ কী করতেন?
—স্টিমার চড়ে এসে যাত্রীরা সব উঠতেন ট্রেনের তৃতীয় শ্রেনীর কামরায়। সঙ্গে থাকতো বাক্স-প্যাটরার সঙ্গেও একটা পুঁটুঁলি। তাতে থাকতো হুরুম বাঁধা।’ চোখ কপালে উঠেছে দেখেই বললেন, ‘জানো না, এপারে তখন অনেকেই মুড়িকে ঐ নামেই ডাকতো। ট্রেনের কামরাব সেই হুরুম চিবোতে চিবোতেই জমে উঠতো সহযাত্রীর সঙ্গে আড্ডা — গ্রামের ওমুক কী করছে, ওর ছেলেটা কী পড়ছে, কলকাতা গিয়ে কার বাড়ি ওঠা হবে কোনো জটলার আবার বিষয় হতো কলেজের পাট চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া নাড়া প্রসঙ্গ। কিংবা সওদাগরী আপিসে মাস-মাইনের চাকরিটা নেওয়া ঠিক হবে কি না, তা নিয়েও চলতো যুক্তি-তক্কো-গপ্পো।’
আর স্বাধীনতার লড়াই?
এইবার স্টেশন মাস্টারের মুখটা যেন আরো উজ্জ্বল — ‘কত বিপ্লবী এই ট্রেনকেই অবলম্বন করেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেই লড়াইয়ে। চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার দখল থেকে শুরু করে বরিশালের কমিউনিস্টরা তো এই ট্রেনেই যাতায়াত করতেন। ট্রেনের কামারাই ছিল বিপ্লবীদের শলাপরামর্শের জায়গা।’
উচ্ছ্বসিত স্টেশন মাস্টার যেন আরও বাঁধনছাড়া। বলে চললেন — ‘১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গ তো ঠেকিয়ে দিলো এই রেলপথই। হাজার হাজার বিপ্লবী এপার থেকে ওপারে, আবার ওপার থেকে এপারে এসে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তাই তো ব্রিটিশরা সেদিন পিছু হটলো।’
তবু তো ঠেকানো গেলো না দেশভাগ?
শুনেই খানিকটা কুঁকড়ে গেলেন — ‘সাতচল্লিশে দেশভাগের দাঁড়িটা টেনে দিলো ব্রিটিশরা। বাটোয়ারার সেই লাইনটা গেলো জমির আল ফুঁড়ে, কারো বা গোয়ালঘর ছুঁয়ে। তারপর খুনোখুনি, মারামারি, কাটাকাটি...’। দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে গলা নামিয়ে আনলেন, ‘সেই কালো ইতিহাসের সাক্ষীও এই রেলপথ। পঞ্চাশের দাঙ্গায় পালাতে থাকা মানুষকে ট্রেন থেকে নামিয়ে লুঠ করা হয়েছিল। এই লাইনের বেনাপোল স্টেশন দেখেছে সেই হাড়-হিম করা সেই ছবিও।’
ভেঙে পড়া বয়স্ক মনকে স্বান্তনা দিতে বললাম, ‘যাক, সেই ছবি তো আর বেশিদিন টেকেনি। সব ভুলে আবার এপার-ওপার মিলতে চাইছে, নতুন করে। বিমান পথ, সড়ক পথ তো আগেই হয়েছে। এবার হবে রেলপথেও।’
আবার যেন স্টেসনমাস্টারের মুখে সকাল বেলার রোদ্দুর। — ‘হ্যাঁ, সবকিছুই পাকা। পয়লা বৈশাখে ট্রেন ছাড়বে চিৎপুরের কলকাতা স্টেশন থেকে। ১১৬ কিলোমিটার পেরিয়ে আসবে সীমান্তের গেদেতে সেখানেই একদফা সারা হবে সীমান্তের অতি প্রয়োজনীয় কিন্তু বাজে ফর্মালিটিজ। তারপর আরও ৫ কিলোমিটার পেরিয়ে আসতে হবে এই দর্শমায়। এখনেও চলবে আরেক দফা খানা-তল্লাশি। ষোলো ঘন্টার মোট রেলযাত্রার ৬ ঘন্টা চলে যাবে এসবের পাট চোকাতেই। এরপর ঈশ্বরদী ছুঁয়ে ট্রেন দৌড় শেষ করবে ২৮৫ কিলোমিটার দূরের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে।’
জানলেন, —‘আমাদের এদিকে অনেকটাই পাকা। এই ট্রেন চালু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই কমলাপুর পর্যন্ত লাইন ব্রডগেজ হয়ে যাবে। তাহলে আর দেখে কে! কলকাতা থেকে সোজা একেবারে ঢাকার প্রধান স্টেশন কমলাপুর।’
উনিও দেখলাম খবর রাখেন, এপারে পঞ্চায়েতের ভোট। তাই নির্বাচন কমিশনের ভ্রুকুটিতে হয়তো পিছিয়ে যেতে পারতো যাত্রার দিন। বললেন, ‘যাক বাবা সব মিটে গেছে।’
কৌতুহল দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাড়াটা একটু বেশি হয়ে গেলো না!
দিন কয়েক আগে বাইপাসের বাসে কথা হচ্ছিল এসব নিয়েই। মায়ের চিকিৎসা করাতে এদেশে এসেছেন। প্রতিদিনই এমন কয়েকশো মানুষ আসেন। জিরো পয়েন্ট থেকে গেদে সীমান্ত তাঁরা আসেন পায়ে হেঁটেই। পাশের সিটে বসা সেই ভদ্রলোকটি যেন ফুৎকারেই উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন সমস্ত আবেগের রিনুয়াল। বলেছিলেন —‘ঐ ট্রেনে আমাদের কোনো লাভ নেই। নন-এসি চেয়ার কারে উঠতেই তো লেগে যাবে আট ডলার। এসি’র কথা তো ছেড়েই দিলাম। চেয়ার কারে পনেরো ডলার, এসি স্লিপারে উঠতে গেলে গুণতে হবে কুড়ি ঐ টাকাতে তো মশাই আট-দশবার এপার-ওপার হয়ে যায়। তাছাড়া আপনাদের ঐ মৈত্রী এক্সপ্রেস তো চলবে সপ্তাহে মাত্র দু’দিন। কুষ্টিয়া, বারাকপুর লোকালের মতো প্রতিদিন তো নয়।
গোটা গল্পটাই উগড়ে দিলাম স্টেশনমাস্টারকে।
শান্ত মনেই শুনলেন সবটা। তারপর হঠাৎ ছন্দপতন। —‘চলি তাহলে, মেলা কাজ পড়ে রয়েছে। তোমার সঙ্গে বক্বক্ করলে চলবে? কাল বাদ পরশু মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢুকবে।’ তারপর কিছুটা ঠান্ডা গলায় বললেন, ‘স্টেশনজুড়ে দেখছো না, সাজ সাজ রব। বুকিং অফিসে কম্পিউটার বসছে, ঝাঁ চকচক হচ্ছে যাত্রী প্রতীক্ষালয়, বসছে এক্স-রে মেশিন-কত কী! পান থেকে চুন খসলেই...
আবার এসে বসলাম স্টেশন-ধারের সেই শেষ বেঞ্চটায়। লাগোয়া বটের পাতায় ফুল ঝরিয়ে পেন্নাম ঠুকছে পড়শী শিমুল। চোখ তুললেই বেখাপ্পা সাদা একটা গোটা আকাশ। তাতে মাত্র একটাই মাত্র চিল-স্থির হয়ে আছে। ভাবলাম, নজর রাখবো- একসময় সে তো ফিরবেই তার ছায়ানীড়ে...
পুনঃশ্চ
পড়ন্ত বেলায় সবে উঠতে যাচ্ছি। হঠাৎ কোলাহলে খানিক থমকে গেলাম। স্টেশনমাস্টারের কথা শুনেই খেত-ফেরত সেই দঙ্গলের মুখে মুচকি হাসির ঝিলিক। বললেন, ‘ঐ স্টেশনমাস্টার আপনারেও ধরছিল। যাক যাবার পথে একবার স্টেশনমাস্টারের ঘরটা ঘুরে যান।’ ফিরতে হলো সেই ঘরের সামনে দিয়েই। তবু, ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার ইচ্ছে হলো না। বরং কান খাঁড়া করলাম, যদি কোন সুদূরে গুন গুন করে ‘দোহাই আলি’-র সুর।
No comments:
Post a Comment