ব্রিগেড ভরানো মুখগুলো
দুপুর একটায় অফিস আসার জন্য বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড়িয়ে। কোচিং ক্লাস সেরে ৭১নম্বর রুটের বাসটা থেকে নামলো ‘গলদঘর্ম’ মা-মেয়ে। হাওড়ার বাস দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়লো দেহাতি ঐ দঙ্গলটা, কালো কালো মুখে পাড়া গাঁয়ের গন্ধ মাখা মহিলার দল। হুড়োহুড়ি দেখে অবাক ক্লাস সিক্স-সেভেনের মেয়েটা। ততধিক বিরক্ত বইয়ের ব্যাগ সামাল দিতে ব্যাস্ত পাটভাঙা সালোয়ার কামিজের মা। —‘এরা কারা? এরা কি ব্রিগেড যাচ্ছে?’
প্রশ্ন তুলে দিয়ে জবাবের অপেক্ষায় না থেকেই মা-মেয়ে পা বাড়ালেন নিশ্চিন্ত হাসি-ঠাট্টা-টেনশনের ঘর পানে। গিয়েই হয়তো মেয়েকে হোম-ওয়ার্ক করাতে বসে যাবেন।
আর ব্রিগেড ভরানো মুখগুলো এভাবেই দল বেঁধে হাওড়া যাবে, ট্রেনের অসংরক্ষিত কামরা ভরাবে, মজুর খাটবে, পোকা-মাকড়ের মতো মরতে মরতে লড়াই করবে, মিছিল করবে— যাতে ঐ পাটভাঙা সালোয়ারের মা নিশ্চিন্তে তার মেয়েটার হোম-ওয়ার্কটা সেরে ফেলতে পারে।
দোহাই মা, হোম-ওয়ার্কের ফাঁকে ঐ ফুটফুটে মেয়েটাকে একথাটাও জানিয়ে দিও, ওরা ব্রিগেড যায়, তাই তুমি হোম-ওয়ার্ক কর...
No comments:
Post a Comment