Saturday, May 22, 2010

BRIGADE BHARANO MUKHGULO

ব্রিগেড ভরানো মুখগুলো

দুপুর একটায় অফিস আসার জন্য বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড়িয়ে। কোচিং ক্লাস সেরে ৭১নম্বর রুটের বাসটা থেকে নামলো ‘গলদঘর্ম’ মা-মেয়ে। হাওড়ার বাস দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়লো দেহাতি ঐ দঙ্গলটা, কালো কালো মুখে পাড়া গাঁয়ের গন্ধ মাখা মহিলার দল। হুড়োহুড়ি দেখে অবাক ক্লাস সিক্স-সেভেনের মেয়েটা। ততধিক বিরক্ত বইয়ের ব্যাগ সামাল দিতে ব্যাস্ত পাটভাঙা সালোয়ার কামিজের মা। —‘এরা কারা? এরা কি ব্রিগেড যাচ্ছে?’

প্রশ্ন তুলে দিয়ে জবাবের অপেক্ষায় না থেকেই মা-মেয়ে পা বাড়ালেন নিশ্চিন্ত হাসি-ঠাট্টা-টেনশনের ঘর পানে। গিয়েই হয়তো মেয়েকে হোম-ওয়ার্ক করাতে বসে যাবেন।

আর ব্রিগেড ভরানো মুখগুলো এভাবেই দল বেঁধে হাওড়া যাবে, ট্রেনের অসংরক্ষিত কামরা ভরাবে, মজুর খাটবে, পোকা-মাকড়ের মতো মরতে মরতে লড়াই করবে, মিছিল করবে— যাতে ঐ পাটভাঙা সালোয়ারের মা নিশ্চিন্তে তার মেয়েটার হোম-ওয়ার্কটা সেরে ফেলতে পারে।

দোহাই মা, হোম-ওয়ার্কের ফাঁকে ঐ ফুটফুটে মেয়েটাকে একথাটাও জানিয়ে দিও, ওরা ব্রিগেড যায়, তাই তুমি হোম-ওয়ার্ক কর...

[tweetmeme only_single="false"]

Saturday, May 1, 2010

VOTER KATHA II

যন্ত্রণার ভোপাল

চন্দন দে

MP-BHOPAL019

ভোপাল, ২১শে নভেম্বর — রাত তখন সাড়ে বারোটা হবে। বাচ্চাটা কাঁদছে, ঘুম ভেঙে গেল। আধা অন্ধকারেই ঠাওর হলো ঘরটা একটা সাদা ধোঁয়ায় ভরে গেছে। লোকে চিৎকার করছে— ভাগো ভাগো। আমারও কাশি শুরু হলো। মনে হচ্ছিল, যেন আগুনের মধ্যে শ্বাস নিচ্ছি। চোখ জ্বলে যাচ্ছিল।

কাঞ্চা কিরলির গ্যাস পীড়িত হাসপাতালের চাতালে বসে সেই ভয়ঙ্কর, বিভীষিকার রাত শোনাচ্ছিলেন আজিজা সুলতান। ছেলেটা সেদিন বাঁচলে বছর পঁচিশ বয়স হতো। আবার বাঁচলে হয়তো তাঁর মায়ের মতোই ‘অপায়িচ’ হয়েই থাকতে হতো। সারা শরীরে জ্বালা নিয়ে, বীভৎস এক চেহারা নিয়ে।

১৯৮৪-র ৩রা ডিসেম্বর রাতের সেই ‘গণহত্যা’য় বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে আরেকজন চম্পাদেবী শুক্লাও তখন ঐ চাতালে। বলছিলেন, ‘মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমাদের গায়ে লঙ্কার গুঁড়ো ছুঁড়ে দিচ্ছে। চোখ-নাক দিয়ে জল বেরোচ্ছে। আর শুধু কাশি।’

আর বেঁচে থাকা এই মানুষগুলির জন্যই লড়াই করে চলেছেন আবদুল জব্বরদের মতো কিছু মানুষ। পুরানা ভোপাল শহরে সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে পৌঁছে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দেবে। ছোট্ট কমপ্লেক্স ‘স্বাভিমান কেন্দ্র’। ভোপাল গ্যাসকান্ডে মৃত কিংবা অসুস্থ গরিব পরিবারগুলির মহিলারা সেখানে হাতে কলমে কাজ শিখছেন। চেষ্টা করছেন ঘুরে দাঁড়িয়ে আত্মনির্ভর হওয়ার।

সামনের বোর্ডে তালিকা ঝুলছে, এই আগস্টে কতজন কোন্‌ স্ট্রিমে পরীক্ষা দিয়েছেন। সেলাই—৪০, জরির কাজ—৮, কম্পিউটার—৪৪।

এখান থেকে বেরিয়ে কেউ নিজেই কিছু করার চেষ্টা করছেন , কেউ বা লেগে পড়ছেন কোনো বেসরকারী সংস্থায়।

তবু মন ভালো নেই জব্বরের। তবুও বিষণ্ণ জব্বর। ভোপাল গ্যাসকান্ডের পর এই নিয়ে সাতবার বিধানসভার ভোট হচ্ছে। কিন্তু ভোট প্রচারে কোথাও কেউ ঐ গ্যাসকান্ডের কথা উল্লেখ করছে না। সে মাঝপথে মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারানো বি জে পি প্রার্থী বাবুলাল গৌরই হোক আর কংগ্রেসের বিভা প্যাটেল, শহরের প্রাক্তন মেয়র। শহরের রাস্তায় নতুন-পুরোনো চটুল হিন্দি গানের সুরে বি জে পি’র স্লোগান— ‘ক্যান্ডিডেট মজবুরি হ্যায়, শিবরাজ সিং জরুরী হ্যায়।’ অনেকটা সেই বাজপেয়ীর প্রচারের ঢঙে। খানিক আগেই প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে দলীয় মুখপাত্রকে ভোপাল গ্যাসকান্ডের কথা তুলতেই অন্য কাজের ব্যস্ততায় জুড়ে গেলেন।

জব্বর হিসেব তুলে বলছিলেন, তিরানব্বইয়ের পর কেউ আর এই প্রসঙ্গ তোলেনি। সেই ভয়ঙ্কর রাত নিয়ে যেন কারও কোনো দাব নেই।

আসলে এখনও সেদিনের ঘটনার জন্য দায়ী ইউনিয়ন কার্বাইডের কারও শাস্তি হয়নি। নানা স্তরের আদালতে কেবল একটার পর একটা মামলা। এগোয়নি কিছুই। গ্যাসপীড়িতদের চিকিৎসা ও অন্যান্য পুনর্বাসনের জন্য সুপ্রিম কোর্টেও চলছে একাধিক মামলা।

এখনও বহু মানুষ গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ভুগছেন। ইউনিয়ন কার্বাইডের বিশাল দেওয়াল ঘেরা বন্ধ কারখানাতে এখনও মজুত নানা রাসায়নিক। তা মাটির তলায় জলে মিশে দূষিত করছে। কেমিক্যাল পড়ে রয়েছে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংয়ের সাইকেল স্ট্যান্ডের কাছে। দেওয়ালে টাঙানো মানচিত্র বলছে অতল আয়ুব নগর, অন্নু নগর, রিশালদার কলোনি, চোলা নাকা, শক্তি নগর, জে পি কলোনি— এমন দশটা মহল্লার জলেই পারদের বিপজ্জনক মাত্রা। সব জেনেও ব্যবস্থা নেয়নি না কেন্দ্র, না রাজ্য। জব্বার জানলেন, বিকল্প নেই, বিষাক্ত জলই খাচ্ছে মানুষ।

এমন এক অবস্থার মধ্যেও ভোট এলেও গ্যাসকান্ড নিয়ে ভোপালে কোনো দলই কিছু বলছে না। শুধু জব্বরের ভোপাল গ্যাসপীড়িত মহিলা উদ্যোগ সংগঠন এখনও আদালতে আদালতে ঘুরে চলেছে।

চব্বিশ বছর অনেকটা সময়। ক্ষতিপূরণের ফয়সালা হবার পরে এপর্যন্ত ৫লক্ষ ৭৪হাজার মানুষ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। দু‘দফায় পঁচিশ-২৫, পঞ্চাশ হাজার। প্রথমবার ১৯৯৩-এ। তারপর ২০০৬-এ। এতগুলো বছর পরে ঐ টাকাগুলোর কীই বা মূল্য বলুন? সখেদে প্রশ্ন জব্বার। চুরাশির বাজারদরে ঐ টাকা আর কত ছিল— পাঁচ-সাত হাজার।

কংগ্রেস তো আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বি জে পি’র আবার সাম্প্রদায়িক নাক। গ্যাসপীড়িতদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পাওয়াদের মধ্যে গুণে দেখেছে বেশি মুসলিম।

তাই সাধ্বী প্রজ্ঞাকান্ডে বেসামাল ‘ইসলাম-সন্ত্রাসবাদের’ বড় বাজনদার আদবানির মুখে যখন ‘সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই’ বাণী শোনা যায়, তখন জব্বারকে খানিকটা বিরক্ত ঠেকে। বলেন, কে টেনেছিল বাবা, এই রেখা— তোমরাই তো। বলেন,এদের তো কোনো জাত নেই, ধর্ম নেই— এরা শুধু গরিব মানুষ। বলেন, ‘শপিং মলের ঝাঁ চকচকে ভোপাল খবরই রাখে না— এক ভোপালকে অন্দর ঔর এক ভোপাল ভি হ্যায়।’

VOTER KHATA I

তবু ওরা ভোট দেন, দিতেই হয়

চন্দন দে

DSC02554

ভোপাল, ২২শে নভেম্বর — লালুপ্রসাদ এখানে ভোট চাইতে পারেন। তবুতো ওঁর রেলই কিছুটা হলেও দানাপানি যোগাচ্ছে। শিবরাজ ভোট চান কোন্‌ মুখে!

কাঞ্চা বাঈ, ধ্যান সিংরা তবু শিবরাজ সিং চৌহানকেই ভোট দেন। এবারও দেবেন। মানে, দিতে হয়। আবার ভোট দিতে না গেলেও তো উঠে যেতে হবে এই গ্রাম ছেড়ে। ভোটের দিন সাতেক আগেই ভীম কোঠিতে পৌঁছে গেছে সেই শাসানি।

রাজধানী ভোপাল লাগোয়া বুধনি— মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা ক্ষেত্র। নাগপুরের পথে কিলোমিটার পঞ্চাশেক এগোলেই ছুঁয়ে দেখা যাবে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন কারনামা। ভীমবেটকা ট্যুরিস্ট কটেজেই গাড়ি রেখে মোটরবাইকে সওয়ার হতে হয়েছে। কারণ জঙ্গলের রাস্তায় গাড়ি নাকি পৌঁছাবে না। সাহাগঞ্জের রাস্তা যেখানে ভাগ হয়েছে তার থেকে খানিকটা এগিয়েই রাকেশের বাইক জঙ্গলের পথ ধরলো। পথ বলা ভুল হবে। বোল্ডার টপকে দ্বিচক্রযানের এগিয়ে চলা। এভাবেই কিলোমিটার দশেক ভাঙতেই হঠাৎ একটা ফাঁকা চত্বর। গ্রাম বলা যাবে কিনা জানিনা, তবে এই ভীম কোঠিতে এখন ছেলেবুড়ো মিলে ১০৭জনের বাস। ঘর পনেরোটা, তাতেই আঠাশটা ভিলালা পরিবারের আষ্টেপিষ্টে মাথা গোঁজা।

শীঘ্রই এ মহল্লার জনসংখ্যা বাড়বে, পেট বাড়বে আরো একটা।

গ্রামের রেহেন্দা বাঈ যে সন্তানসম্ভবা।

ঘরে ফরে উঁকি দিয়ে ওদের গেরস্থালি দেখার চেষ্টা। সেই সংসারে হাজারো তালি, শতেক ছিদ্র, বাড়াবাড়ি রকমের অনটন। ঘরের আড়াআড়ি পাঁচিল তুলে মানুষ আর পশুর সহাবস্থান। গুলাব সিং ভিলালার কথায়, বখরি আন্দার, গাই বাহার। সব ঘরের সামনেই একটা মাচান করে তার নিচে রাতভর বাঁধা থাকে ওদের গাই-বাছুরগুলো। আর ঘরে ওদের সঙ্গেই রাত কাটায় পোষা ছাগলগুলো।

মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রের এই গ্রামে না আছে কোনো স্কুল, না আছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। পানীয় জলের জন্য ভরসা দু’কিলোমিটার দূরের নালা, রেললাইন টপকে যেতে হয়। বর্ষায় সে জল পেটে পড়তেই অসুখ-বিসুখ। তবে বি পি এল কার্ড আছে। রেশন দোকান, তাও দশ কিলোমিটার দূরে। দশ টাকা কেজি দরে চাল মেলে, গম ৮টাকা আর মিট্টি কা তেল কিনতে হয় ১২টাকা দিয়ে। এত দাম কেন?— রেশনওয়ালা বলে, ট্রাক্টরে করে মাল আনতে কত খরচ জানো?

এ গ্রামও ফসল ফলায়। তবে বৃষ্টি হলে। বছরে একবার। জঙ্গল সরানো জমিতে মক্কা হয়। ছয় বাচ্চার মা, সুনীতা বাঈয়ের বড়ই আক্ষেপ, গ্রামে একটাও বলদ নেই। তাহলে আর স্বামী-স্ত্রী মিলে লাঙল চষতে অত কষ্ট হয় না।

জমির পাট্টা চেয়ে এগ্রামের ৩৫জন আবেদন করেছেন। আর সেকথা মনে করাতেই দশ কিলোমিটার পথ ঠেঙিয়ে যেতে হয় খান্ডোয়ার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। এ আর নগরের সেই গ্রামেই থাকেন রীতিমতো ভোটে যেতা মহিলা পঞ্চায়েত-প্রধান। ভীম কোঠির কেউই তাঁর নাম জানে না। সকলে চেনে আপ সিংকে, সেই মহিলার স্বামী। পাশে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একতা পরিষদের রাকেশ সিং ফুটনোট দিলেন— ‘এস পি—সরপঞ্চ পতি’।

তা বলে মুখ্যমন্ত্রীর এই গ্রাম পূর্ণ-নিরক্ষর নয়। এ গ্রামের রমেশ সিং ভিলালা নাম সই করতে পারেন। প্রতিদিন দশ কিলোমিটার দূরের এ আর নগরের স্কুলে গিয়ে ক্লাস থ্রি’র বিদ্যে আছে তার পেটে। তাই চার বাচ্চার পর স্ত্রীর অপারেশনটা করিয়ে নিয়েছেন। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তদ্বিরে একজন শিক্ষক এগ্রামের জন্য নিয়োগ হয়েছেন। কিন্তু দশ-দশ-কুড়ি কিলোমিটার পথ হেঁটে রোজ আসা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। আসেন মাসে একদিন।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা? কারো রোগ বালাই হলে। জঙ্গলের জড়িবুটিতেই কাম চালাই। না পারলে, সেই আপনারা যেকান থেকে জঙ্গলে ঢুকলেন, সেই দশ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে লরিতে চেপে হাসপাতাল। বছর পাঁচেক আগে এ আর নগরে নিয়ে গিয়ে একবার পোলিওর টীকাকরণ হয়েছিল। তারপর আর নয়। হায়! ‘হু’র পোলিও নির্মূল করার স্বপ্ন।

বিকাশ সংবাদের রাজু খোঁজ দিচ্ছিলেন, ঐ গ্রামের ৯০% বাচ্চা গ্রেড থ্রি স্টেজের ম্যালনিউট্রিশনে ভুগছে।

সেই সাক্ষর রমেশকেই প্রশ্ন— এতদূরে এই জঙ্গলে পড়ে আছেন কেন।

— আরে এই জঙ্গলই তো আমাদের পান্তা-পানির জোগানদার। গরমে কত ফল মহুয়া, গোন্ড, চিরঞ্জীবী। জঙ্গল দিয়েই ঘরবাড়ি, আবার জঙ্গল দিয়েই ব্যাধির ওষুধ। তাছাড়া আমাদের গরু, ছাগলগুলি। এগুলিই তো আমাদের সম্পদ। নিজেদের খুশি মতো ঘাস, পাতা খেয়েই এগুলো পুষ্ট হয়ে ওঠে। অন্য জায়গায় গেলে এসব কিছুর জন্য পয়সা লাগবে। অন্য জায়গায় গেলে গরু, ছাগল, মুরগিগুলোই বা থাকবে কোথায়, খাবে কী? অভাবের দিনে একটা ছাগল বেচলে তো কিছু পয়সা হয়।

তাছাড়া কী করবো অন্য জায়গায় গেলে? এখানে তো তবু রেলের কাজ মেলে। লাইনের পাথর সরানো, পাটরি বদলানো। ন’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত কাজ। সপ্তাহে ছ’দিন কাজ। নব্বই টাকা রোজ। সবসময় অবশ্য কাজ হয় না। আবার ধরুন, জঙ্গলে যখন গাছ কাটার নিলাম হয়, ঠিকাদারের কাছে কাজ মেলে। অন্য জায়গায় গেলে তো আর এসব পাবনা।

পাশে বসা বয়স্ক নানা সিং জুড়লেন, ২৫ বছর ধরে এখানে রয়েছি। খরগোন জেলার সেন্ধোয়া থেকে উৎখাত হয়ে এখানে এসেছিলাম। আর কোথাও উৎখাত হতে চাই না।

নব্বইয়ে নাগাদ নাকেদার (বন আধিকারিক) পরেশান করছিল, ভাগিয়ে দিতে চাইছিল, তখন খোঁজখবর করে গিয়েছিলাম শিবরাজ সিংয়ের কাছে। তখনও তিনি এখানকার বিধায়ক। বন দপ্তরকে চিঠি দিয়ে আরজি জানিয়েছিলেন, এঁদের যেন তোলা না হয়। সেই চিঠির একটা কপি বহু যত্নে সুরক্ষিত রমেশের ফাইলে।

তারপর সেই এখান থেকেই সাংসদ, পাঁচ বার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এখন তো মুখ্যমন্ত্রী। বিজলী তো দূর-অস্ত, এই পঁচিশ বছরে ভীম কোঠিতে পৌঁছায়নি স্কুল, পৌঁছায়নি অঙ্গনওয়াড়ি, পৌঁছায়নি রেশন দোকান।

কিন্তু সেই একটা চিঠির জোরে শিবরাজ গোটা ত্রিশেক ভোট কিনে রেখেছেন। সাতাশ তারিখ তাঁরা কুড়ি কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভোট দিতে যাবেন রতনপুর সেমরিতে।

পরদিন থেকেই আবার সভেরে চার বাজে উঠনা, কাম ঢুন্ডনা...

পুনশ্চ: আরেকটু হলেই হয়েছিল আর কী! জঙ্গলের চড়াই ভাঙতে গিয়ে রাকেশের হিরো হুণ্ডা মাঝে মধ্যেই গোঙাচ্ছিল। একটা বড় চড়াই দেখে পেছন থেকে আমি নেমে পড়লাম, যাতে ওর একটু সুবিধা হয়। নামতেই ও তরতর করে উঠে গেলো। পেছনের বাইকে আরেক সাংবাদিক বন্ধু বললেন, ‘ও বুঝতেই পারেনি। আপনি নেমে গেছেন। উঠে পড়ুন, আমার বাইকে।’ দশ মিনিট এমনভাবে যাওয়ার পর যখন বিকাশের পাশে পাশে চলতে থাকলাম, শুনি, আমি পেছনে রয়েছি মনে করে ও রানিং কমেন্ট্রি চালিয়ে যাচ্ছে- কবে এ রাস্তায় প্রথম এসেছিল, এ জঙ্গলে কী কী (শ্বাপদ) আছে... এমন অনেক কিছু। আমাকে সুনীলের বাইকে দেখে তো ওঁর চক্ষু চড়ক গাছ।

এটা ঘটেছিল ভীম কোঠি থেকে ফেরার পথে। রাস্তা থেকে তা কিলোমিটার ছয়েক জঙ্গলের ভেতরে। আশা করি আর কিছু বলার দরকার নেই।